More Mack-up Health problem

অতিরিক্ত মেকাআপে ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকি

Information তথ্য বাংলা

মেয়েদের নিজেকে সুন্দর দেখানোর হাতিয়ার মেকআপ। কিন্তু অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বাড়ছে ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকি যা অনেক মেয়েদের অজানা। সেসব বিষয় নিয়ে এই ফিচার।

অতিরিক্ত মেকআপের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, বরং প্রতিদিনের অতিরিক্ত মেকআপ শীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ এর ক্ষতিসহ কিডনি ড্যামেজের মতো রোগও ডেকে আনতে পারে। আর তা মেয়েদের শরীরে কাজ করে নীরব ঘাতক হিসাবে।

বর্তমানে বাজারে এত ধরনের মেকআপ কিট পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে চোখ ফেরানো সত্যিই সম্ভব নয়। কারণটা তো খুব সহজ। আর তাহলো, যেকোন মেয়ে নিজেকে সবসময় সব থেকে বেশি স্মার্ট ও সুন্দর হিসাবে প্রদর্শন করতে চান। আর এর বেশির ভাগ কারণ হলো মেয়েরা ছেলেদের আকর্ষণের জন্য যে সব ভয়ানক ঘাতক মেকআপ ব্যবহার করে। তা তার অজান্তে তারই ক্ষতিকরে বসে। এছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে। তবে এসব প্রোডাক্ট তো তাদের বিজ্ঞাপনে সেই নিশ্চয়তাই দেয়। এগুলো ব্যবহার করলে চোখ থেকে ঠোঁট সবই এত সুন্ধর দেখাবে যে, এতে কেউ আপনার থেকে চোখ ফেরাতে পারবে না। তাইতো তাদের প্রতিশুতি অনুযায়ী মেয়েরা সৌন্দর্য বাড়াতে ঐসব প্রসাধনী কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কিন্তু মেয়েরা জানতেও পারিনি, এর কারণে তাদের শরীরে কত রোগ বাসা বাঁধে। চলুন জেনে নেওয়া যাক নীরবে বাসা বাঁধা সেই অজানা ব্যাধিগুলো সম্পর্কে।

ক্যান্সারঃ কিছু লিপবাম, লিপস্টিক এবং সানস্ক্রিনে বেঞ্জোফেনান নামে এক ধরনের টক্সিক কেমিক্যাল থাকে। যা সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচায়। যদিও বাস্তবে এই কেমিক্যালটি ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ হওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান করণ, এমনটাই দাবি গবেষকদের।

বন্ধ্যত্বঃ একাধিক লিপস্টিক, সানস্ক্রিন এবং ফাউন্ডেশনে এমন কিছু কেমিক্যাল থাকে যেগুলো শরীরে হরমনের ভারসাম্য নষ্ট করে বন্ধ্যত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে যেসব নারী বা মেয়েরা অতিরিক্ত মেকআপ করে। তাদের অনেকে বাঁচ্চা জন্মদান করা ক্ষমা হারিয়ে ফেলে।

কিডনি ড্যামেজঃ কেডিয়াম নামে এক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় একাধিক মেকআপ প্রোডাক্টে। এটি কোনোভাবে যদি শরীরে প্রবেশ করে। তাহলে, কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। কিছু ক্ষেত্রে তো কিডনি ড্যামেজের মতো বিপদ ডেকে আনতে পারে এই উপাদানটি।

মাথা ঘোরাঃ নেলপলিশ, চুলের ডাই প্রভৃতিতে টলুইন নামে এক ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল থাকে যেটির কারণে মাথা ঘোরা, এমনকি ক্রনিক মাথা যন্ত্রণার মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হাড়ের রোগঃ কেডিয়াম নামে এই কেমিক্যালটি যদি ত্বক ভেদ করে হাড়ের পৌঁছে যায়। তাহলে কিন্তু বিপদ। কারণ এর থেকে হতে পারে নানা ধরনের জটিল হাড়ের রোগ।

হরমনের ক্ষতিঃ যে মেয়েরা অতিরিক্ত মেকআপ করে তাদের শরীরে হরমনের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং নানা রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে।

বর্তমানে তো বিভিন্ন অফিসে মেয়েদের কে রিসিপশনে চাকুরী করতে দেখা যায়। তাদের দিকে লক্ষ্য করলে মনে হয়। বাজারে যত মেকআপ আছে, এই মেয়েটিই লাগিয়েছে। আর আজকের দিনের কোম্পানীগুলোর  কাস্টমার/ ক্রেতা (খদ্দের) ধরার জন্য মেয়েদের ব্যবহার করছে রিসিপশনিস্ট হিসাবে। যাতে করে ছেলে বা পুরুষ কাস্টমারকে বেশি আকর্ষণ করতে পারে। আমার দৃষ্টিতে এধরনের মেকআপ ও এধরনের কর্ম থেকে মেয়েদের দূরে থাকাটাই সব থেকে উত্তম। তারপর আপনারাতো আমার কথা শুনবেন না। বাঙলাই একটা প্রবাদ আছে, “আমি বলাউল্লা বলেগেলাম আর আপনি শোনাউল্লা শুনে গেলেন বা পড়ের গেলেন।”

এছাড়াও মেকআপ মেয়েদের অনেক ক্ষতি করে। মেয়েরাই যে খালি মেকআপ করে তাই নয়্ বর্তমানে ছেলেরাও মেকআপ করে। তাই উভয়কে এইসব ভয়ানক কেমিক্যাল ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন। আপনাকে সৃষ্টি কর্তা যেমন ত্বক দিয়েছেন সেটাই আপনার জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া আপনি যেমন ত্বকের অধিকারী হননা কেন। তাতে কোন সমস্যা নেই। এই যে মেকআপ করে বা বিভিন্ন উপয়ে সৃষ্টি কর্তার উপর হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিজেকে বেশি সুন্দর করতে যাচ্ছেন। কিন্তু এটা কতদিনের চিরকালের তো না। যেহেতু আপনার জীবনকাল ক্ষীনসময়ের।  তাই মেকআপ বা কেমিক্যাল ব্যবহার না করাটাই ভালো।

অন্যদিকে যেসব কোম্পানী কসমেটিক প্রসাধনী তৈরি করে এবং বিভিন্ন উপায়ে কালো বা শ্যামলা ত্বকের মানুষদের (ছেলে ও মেয়েদের) ছোট দৃষ্টিতে উপস্থাপন করেন। তাদের ব্যবসাটা কতটু ভালো তা আপনারা ও সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। মাঝে মধ্যেই টিভিতে বিভিন্ন চ্যালেনের বিভিন্ন ভাষাই বিভিন্ন দেশের কালো বা শ্যামলা ত্বকের লোকেদের বাজেভাবে উপস্থাপন করা হয়। আমার দৃষ্টিতে সব থেকে বাজে । এ্যাড তৈরি করে ফ্যারেন লাভলী (ইউনিলিভার)। যাই হোক যার যার কর্ম তাই তাই করবে। তার পরেও আমাদের কাজ মানুষকে সচেতন করা আমরা করব।

Leave a Reply