Virus

ভাইরাস কি (কম্পিউটার ভাইরাস)? ভাইরাসের নামকরণ ও ভাইরাসের ক্ষতিরকর দিক

Bangla Education Information তথ্য বাংলা

ভাইরাস কি?

ভাইরাসের সম্পর্কে আমাদের মনে যে চিত্র ভেসে আসে, বাস্তবতাও তাই। তবে ভাইরাস ছাড়াও অনেক কিছুই আমাদের দেহের ক্ষতি করলেও আমরা এদেরকে ভাইরাস বলি না। ভাইরাসের প্রধান বৈশিষ্ট হলো আমাদের দেহে প্রবেশ করে আমাদের দেহেই জীবন ধারন করে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ভাইরাস আক্রমনের শুরুটা আমরা ধরতে না পারলেও যখন এটি আমাদের দেহে বিস্তার লাভ করে এর আসল উদ্দেশ্য অর্থাৎ কার্যকারীতা শুরু করে তখনই আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু এ বুঝাটা অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত গড়ায়। তখন আমাদের আর কিছুই করার থাকে না।

কম্পিউটার ভাইরাস কি?

কম্পিউটার ভাইরাস ও আমাদের দেহে সংক্রামণ ঘটানো ক্ষতিকারক ক্ষুদ্র উপজীব যা কম্পিউটারের দেহে ঘটাতে পারে রেকম ধারণা পূর্বে অনেকেরই থাকলেও বর্তমানে তা পাল্টাতে শুরু করেছে। বাহিরের উৎস থেকে কম্পিউটারের মেমোরীতে প্রবেশ করে মেমোরীতে গোপনে বিস্তার লাভ করে মূল্যবান প্রোগ্রাম এর তথ্য নষ্ট করে দেয় কম্পিউটার ভাইরাস। এ ভাইরাস সম্পর্কে ব্যবহারকারীর মোটামুটি ধারণা থাকলেও কম্পিউটার বিষয়ে আগ্রহীদের একটি সাধারণ অথচ জ্ঞান অন্বেষী প্রশ্ন জাগতে পারে “কম্পিউটার ভাইরাস” কে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়? যদিও এর সোজাসুজি কোন উত্তর দেয়া সম্ভব নয় তথাপি এর বিভিন্ন দিক পর‌্যালোচনা করলে এর একটি সাধারণ সংজ্ঞা এভাবে দেয়া যেতে পারে।

ভাইরাস হলো এমন একটি প্রোগ্রাম যা একটি ধ্বংসকারী/সন্ত্রাসী হিসেবে নিজেকে (অর্থাৎ এর “এক্সিকিউটেবল” অংশকে) অন্যান্য প্রোগ্রামের সাথে সেটে দিয়ে এর সংক্রামণ ঘটায় এবং পর‌্যায়ক্রমে এর ধ্বংসযজ্ঞের বিস্তৃতির নিশ্চয়তা বিধান করে। প্রকারন্তে এ সংক্রামিত প্রোগ্রামগুলো ভাইরাসের হয়ে অন্যান্য অসংক্রামিত প্রোগ্রামগুলোতে সংক্রামন ঘটায়। যার ফলে প্রথমোক্ত প্রোগ্রামগুলো মূলভাইরাসের হয়ে অন্যান্য ভাল প্রোগ্রামগুলোতে সংক্রামন ঘটায়।

ভাইরাস নামকরনঃ

কম্পিউটারের পরিভাষায় ভাইরাস (VIRUS) শব্দটিকে ভাঙলে পাওয়া যায় ‘ভাইটাল ইনফরমেশন রিসোর্সেস আন্ডার সিজ (Vital Information Resources Under Seize)’- অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রখ্যাত গবেষক ‘ফ্রেড কোহেন’ ভাইরাসের নামকরণ করেন।

কম্পিউটার ভাইরাস ও জৈবিক ভাইরাসের মধ্যে পার্থক্যঃ

উপরোক্ত আলোচনা হতে আমরা সহজেই জানতে পেরেছি, কম্পিউটার ও জৈবিক ভাইরাস সম্পর্কে। যদিও জৈবিক ভাইরাসের সংক্রমণ কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা ঘটানো সম্ভব নয় তবুও তাদের এই নৈতিক অমিল এর পাশাপাশি উভয়ের মধ্যে অনেক চারিত্রিক সাদৃশ্য রয়েছে। জৈবিক ও কম্পিউটার ভাইরাস উভয়টিউ সংক্রমন এর প্রত্যক্ষ ধারক ও বাহক। উভয় ক্ষেত্রেই এরা এদের উপজীব্যের উপর সংক্রমন এর উদ্দেশ্যে কর্তৃত্ব খাটায়। অর্থাৎ উভয়ই স্ব স্ব উপজীব্যকে তাদের (ভাইরাসের) বংশবৃদ্ধিতে সাহায্যে করতে বাধ্য করে।

ভাইরাস কম্পিউটারের কি কি ক্ষতি করে?

বর্তমান সময়ে মানুষ বেশির ভাগ কাজ কর্ম কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রন করে থাকে। কম্পিউটারের বহুবিদ ব্যবহার মানব সভ্যতাকে গতিশীল করে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছে। যে প্রযুক্তি ধরে এত সফলতা সেই প্রযুক্তিই যদি হঠাৎ করে ক্ষতি করতে শুরু করে । তাহলে এর ক্ষতিটাও যে কত ভয়াবহ হবে, তা আন্দাজ করা দুরূহ। কম্পিউটারের ক্ষতিকারক প্রযুক্তি কম্পিউটার ভাইরাস কি ক্ষতি করতে পারে তা নিয়েই বৃহৎ ভলিয়মের বই লেখা সম্ভব। এই ক্ষতির সংক্ষেপ কিছু পয়েন্ট নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

১. কম্পিউটার চলতে চলতে হঠাৎ স্থির (Hang) হয়ে কাজ স্থগিত করে দেয়। এ অবস্থায় কম্পিউটার পুনরায় চালু করতে হয় বিধায় সেভ না করা অনেক মূলবান তথ্য হারিয়ে যায়।

২. গুরুত্বপূর্ণ  অনেক স্থাপনায় প্রোগ্রাম উলোট-পালোট করে স্বাভাবিক কাজ করতে ব্যহত করা ছাড়াও প্রভূত ক্ষতি সাধন করতে পারে। যেমন- মেডিক্যাল রেকর্ড, এয়ারট্রাফিক কন্ট্রোল এবং অন্যান্য নিরাপত্তা কাজ উলোট-পালোট করে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত্য ঘটাতে পারে।

৩. ভাইরাস সামান্য কয়েক বিট ডেটা পরিবর্তন করে হিসাব-নিকাশের বিরাট হের-ফের করে (যেমন- ব্যাংকিং সেক্টরে) বিরাট অর্ধনৈতিক ক্ষতি সাধন করতে পারে।

৪. ডিস্কে সংরক্ষিত অতি মূল্যবান থ্য হারিয়ে ফেলতে পারে।

৫. গ্ররুত্বপূর্ণ বহুল ব্যবহৃত অনেক প্রোগ্রামের এক্সিকিউটেবল ফাইলকে আক্রান্ত করে করাপ্ট করে দিতে পারে। ফলে এ প্রোগ্রামটি আর রান করবে না।

৬. প্রতিদ্বন্দি বিরাট কোন কোম্পানীর কম্পিউটারাইজড কর্পোরেট সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে গোপনীয় অনেক তথ্য পাচার করে কোম্পানীর বিরাট ক্ষতি সাধন করতে পারে।

৭. কোন কোন ভাইরাস হার্ডডিস্ক ফরম্যাট করে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রোগ্রাম ও তথ্য নষ্ট করে দিতে পারে।

৮. ভাইরাস তার বংশবৃদ্ধির কার্যক্রম করতে গিয়ে কম্পিউটারের গতিকে মন্থর করে দেয়।

৯. হার্ডডিস্কের FAT / NTFS/RAD নষ্ট করে দিতে পারে। এতে করে অপারেটিং সিস্টেমের ফাইলগুলোকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় খুজে পাওয়া যাবে না।

১০. কিছু ভাইরাস হার্ডডিস্কের বুট সেক্টর আক্রান্ত করে। আক্রান্ত হার্ডডিস্ক ফরম্যাট করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। ফরম্যাট করার ফলে অনেক মূল্যবান ফাইল/উপাত্ত হারাতে হয়।

১১. কিছু কিছু ভাইরাস সিপিইউ এর রিড/রাইট ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

১২. হার্ডডিস্কে Bad Sector বাড়ায়।

১৩. কোন কোম্পানীর ওয়েব পেজের তথ্য বিকৃত করে ব্যবসায়িক উদ্দেধ্য বিফল করা ছাড়াও ভাবমূর্তি নষ্ট করে বিরাট ক্ষতি সাধন করতে পারে।

ভাইরাস মানে ভাইরাস, এ শুধু ক্ষতি ছাড়া আর কোন উপকারে আসেনা। তাই, ভাইরাস হতে বাচিতে হইলে। এর উপয় জানতে হবে। এখানে আমি ভাইরাসের সামান্য কিছু ক্ষতিকর দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তবে ভাইরাসের ক্ষতি অনেক ভয়াবহ।  

আমার এই লেখাটি ধারাবাহিক চলিতে থাকিবে…… পরের পোস্টে আরও ক্ষতির দিক, আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ, প্রতিকার এবং এ থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয় সম্পর্কে লেখব।

Leave a Reply