হাস মুরগী পালন

হাঁস মুরগি পালন করেও অর্থ আয় করতে পারেন

Information তথ্য বাংলা

অর্তনৈতিক গুরুত্ব:- হাঁস মুরগির ডিম ও মাংস অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এদের চাহিদাও বিপুল। আর এগুলোর ব্যবসা তাই-ই ভীষন লাভদায়ক।

হাঁস পালন পদ্ধতি- হাঁস বিভিন্ন প্রজাতির পাওয়া যায়।

১) দেশি হাঁস

২) রানার হাঁস

৩) খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁস

৪) সাদা ক্যাম্পবেল হাঁস

হাঁস পালন করতে হলে বাড়ির কাছে পুকুর, খাল ইত্যাদি জলাশয় থাকা দরকার। হাঁসের থাকার জন্য বাঁশ, কঞ্চি বা ইট, সুরকি দিয়ে অল্প উঁচু ঘর তৈরি করতে হবে।

৮০% হাঁস সকাল ৭/৮ টার আগে ডিম পাড়ে।

১৫% হাঁস সকাল ৯টার মধ্যে ডিম পাড়ে। তাই সকাল ৯ টা পর্যন্ত হাঁসগুলোকে ঘরে আটকে রাখা উচিত।

আর সূর্যাস্তের আগেই তাদের ঘরে ঢোকানো দরকার। বিকালে ঘরের কাছে নিয়মিত ভাবে খাবার রেখে দিলে হাঁসেরা নিজেরাই তা খেতে সময় মতো ঘরের কাছে আসবে, তখন তাদের ঘরে তোলা সহজ হবে। ঘর মাঝে মাঝে সাফ করতে হয়। ডি.ডি.টি পাউডার বা গন্ধকের গুঁড়ো ছেটানো প্রয়োজন।

শামুক, গেঁড়ি হাঁসের প্রিয় খাদ্য। গেঁড়ি, গুগলি জলের সঙ্গে থেঁতলে তার সাথে ভাত ইত্যাদি, শুকনো মাছের গুঁড়া, নুন একসাথে মিশিয়ে হাঁসের জন্য মিশ্র খাদ্য তৈরী ক’রে রোজ বিকালে তাদের ঘরের সামনে রাখতে হবে।

হাঁস ডিমে তা দিতে পারে না, তাই ডিমে তা দেওয়ার জন্য দেশী মুরগী কে কাজে লাগাতে হবে।

মুরগী পালন- প্রথমে একটা পিরামিড আকৃতির ঘর বানান। ইংরেজি A অক্ষরের মতো করে। কাঠের বা ভাঁশের তিনটি ফ্রেম দিয়ে এই ঘর বানিয়ে নিতে হবে। ২ মিটার লম্বা, ২ মিটার চওড়া পিরামিড ঘরে ১৪/১৫ টি মুরগীকে রাখা যায়।

মুরগীর ঘরের মেঝেতে শুকনো খড়-বিচালি বা কাঠের গুঁড়া পুরু করে ছড়িয়ে দিন। একে বলে ডীপ লিটার ব্যবস্থা মুরগীর ঘরে হ্যারিকেন লন্ঠন বা অন্য কিছুর সাহায্যে (বিশেষ করে শীতের দিন) কৃত্রিমভাবে তাপ সঞ্চারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এমনিতে মুরগী নানান জাতের দেখতে পাওয়া যায়।

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মুরগীগুলোর মধ্যে ইটালির টসক্যানির লেগহর্ন মুরগী ও মিনাকা দ্বীপের মুরগী বিখ্যাত। হোয়াইট লেগহর্ন মুরগী বছরে ডিম দেয় ১৬০- ২০০ টা। আমেরিকার রোড আইল্যান্ড জাতীয় মুরগী ভারতে ব্যাপক হারে পালিত হয়। এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মুরগীর মধ্যে আসীল জাতের মুরগীই উৎকৃষ্ট। চাটগাঁয়ের মুরগী, চীনের মুরগী, ব্রামা ও ল্যাংশ্যান ( ছোটজাতের মুরগী) ও ভারতের সঙ্কর জাতের ঘ্যাগাস মুরগী খুবই উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও ইংল্যান্ডের লাইট সাসেকশ ও অরপিংটন, অষ্ট্রেলিয়ার উইঅ্যানডট অষ্টলিপ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কোচীন মুরগীর চাষ ভারতে হয়।

ডিম ফুটে বাচ্চা হবার পর ৩০ ঘন্টা পর্যন্ত তাদের কিছু খেতে দিতে হয় না। বাচ্চা মুরগীদের থাকা-খাওয়ার বিশেষ ভালো ব্যবস্থা করতে হয়। তাদের ৫০ ভাগ চালগুড়া, ২৫ ভাগ গমের ভূষি, ১০ ভাগ ভাগ ভুট্টা চুর্ণ, ৫ ভাগ করে মাছের শুকনো গুড়ো, বাদামের খোল গুড়া, গুড় ও ১ ভাগ নুনের মিশ্রণ খেতে দিতে হয়।

মুরগীদের সাধারণত রাণীক্ষেত রোগ, কলেরা, বসন্ত প্রভৃতি রোগ হয়। এই সব রোগের ভ্যাকসিন আগে থেকে দেওয়া দরকার। বাচ্চা মুরগীর পুলোরাম রোগ, ককসিডাইওসিস, করিজা রোগ হতে পারে। মুরগীর শরীরে উকুন থাকলে গ্যামাক্সিন পাউডার দিয়ে মাঝে মাঝে ঝেড়ে দিতে হবে।

খুঁটিনাটি তথ্যঃ- শিশুহাঁস ও শিশু মুরগী যেকোন হ্যাচারি থেকে পাবেন। ১২/১৬ টাকা করে মাথা পিছু দাম পড়বে। বিক্রি করতে পারবেন কেজি প্রতি ১২০- ২৪০ টাকা  করে। ডিম ৩০- ৩৫ টাকা হালি বিক্রি করতে পারবেন।

Leave a Reply