Category Archives: বাংলা

বাংলাদেশে ফাইভ-জি বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিতে হুয়াওয়ের আগ্রহ প্রকাশ

বাংলাদেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তি সেবা চালু করতে কারিগরি সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই প্রযুক্তি সেবা প্রদান করবেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সাথে বুধবার সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎকালে হুয়াওয়ে টেকনোলজি কোম্পানির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রুচ লি এই সহায়তা প্রদানের কথা ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে তারা ফাইভ-জি প্রযুক্তির কারিগরি বিভিন্ন বিষয় বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়নসহ প্রযুক্তির বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সংক্রান্ত কারিগরি ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, প্রযু্িক্তর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমারা ফাইভ-জি চালু করতে তরঙ্গ ব্যবস্থাপনাসহ পথ নকসা তৈরি করছি।

ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের জন্য ফাইভ জি প্রযুক্তি দুনিয়ায় একটি অভাবিত উদ্ভাবন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাইভ জি প্রযুক্তি আগামী দিনে পৃথিবীতে নতুন এক সভ্যতার জন্ম দিবে। ফাইভ জি কেবল কথা বলার জন্য শহুরে মানুষের প্রযুক্তি নয়। এই প্রযুক্তি হবে গ্রামের মানুষের জন্য কৃষি ও মৎস্য উন্নয়ন ব্যবসা এবং শিল্পের প্রযুক্তি, সকলের প্রযুক্তি।

তিনি বলেন,ফাইভ জি প্রযুক্তির সাথে কুয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তির সমন্বিত হলে আগামী দিন প্রযুক্তি কোথায় পৌঁছূবে তা কল্পনাও করা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে সূচিত ডিজিটাল এই বিপ্লব বাংলাদেশ পৃথিবীকে ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের পথ চিনিয়েছে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন ডিজিটাল বিপ্লবকে শাণিত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যে প্রযুক্তির অভাবনীয় ভার্সন ফাইভজি প্রযুক্তি চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে ফাইভ জি প্রযুক্তির পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে কারিগরি সহযোগিতার জন্য তিনি হুয়াওয়েকে ধন্যবাদ জানান।

ব্রুচ লি ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশ্বে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে একটি মাইল ফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।-বাসস

This post source: DMPnews

এই নিয়মগুলো মেনে চলুন হাঁটুর ব্যথা কমে যাবে

হাঁটুর ব্যথা এখন প্রায় ঘরে ঘরে। অতিরিক্ত কাজ করলেও ব্যথা বাড়ে। আবার একেবারে না করলেও জাঁকিয়ে বসে। বয়স বাড়া ছাড়াও হাঁটুর ব্যথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিছু রোগও। তবে তখনই হাঁটু ভাল থাকবে, যখন ব্যায়ামের অভ্যাস থাকবে। এতে হাঁটুর ব্যথা পুরোপুরি সেরে হয়তো যাবে না। কিন্তু রোজ নিয়মিত ব্যায়ামগুলি করলে ব্যথা কম থাকবে। নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে হাঁটুর ব্যথাকেও।

দেখে নেওয়া যাক, কোন ব্যায়ামে ভাল থাকবে হাঁটু।

লেগ রেজ়:

মাটিতে টানটান হয়ে শুয়ে দু’হাতের তালু মেঝের উপরে রাখুন। এ বার বাঁ পা আস্তে আস্তে উপরে তুলুন। মাটি থেকে অন্তত ৪৫ ডিগ্রি কোণে তুললে ভাল। পাঁচ সেকেন্ড  এভাবে পা তুলে রাখুন। তার পরে ধীরে ধীরে নামিয়ে নিন। এই একই পদ্ধতিতে ডান পা ওঠান এবং উপরে কিছুক্ষণ রেখে নামিয়ে নিন। শুরুর দিকে দু’পায়ে চার বার করে এই লেগ রেজ় ব্যায়াম করতে পারেন। পরে ক্ষমতা বাড়লে আট-দশ বার পর্যন্ত বাড়াতে পারেন লেগ রেজ়ের সেট।

লায়িং হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ:

মেঝেয় টানটান হয়ে শুয়ে বাঁ পা উপরে তুলুন। এ ক্ষেত্রে মাটির সঙ্গে পা ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকবে। দু’হাত দিয়ে বাঁ ঊরুর নীচে সাপোর্ট রাখুন। এ বার বাঁ হাঁটু আস্তে আস্তে বুকের কাছে আনার চেষ্টা করুন। ৩০ সেকেন্ড রেখে, আবার স্বাভাবিক জায়গায় ফিরে যান। এ ভাবে দু’পায়েই করতে হবে। ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেন পা।

হাফ স্কোয়াট:

এই ব্যায়াম করতে হবে দাঁড়িয়ে। হাত দু’টি সামনের দিকে তুলুন। এ বার অল্প বসার চেষ্টা করুন। তবে পুরোপুরি নয়, অর্ধেক বসার ভঙ্গি পর্যন্ত রেখেই উঠে পড়ুন। এ ভাবে অন্তত ১০টি সেট করতে হবে। এই হাফ স্কোয়াট করতে সাধারণত ব্যথা হওয়া উচিত নয়। তবে কারও ব্যথা হলেও তা প্রাথমিক। নিয়মিত অভ্যেস করলে স্কোয়াট বা হাফ স্কোয়াটে ব্যথা 
হবে না।

ওয়ান লেগ ডিপ:

এই ব্যায়ামের জন্য অবশ্য দরকার একটি চেয়ারের। চেয়ারের পিছনে দাঁড়িয়ে তার মাথায় ডান হাত দিয়ে সাপোর্ট দিন। এ বার বাঁ হাত কোমরে রাখুন। এ ভাবেই ডান পা মেঝে থেকে অন্তত ১২ ইঞ্চি তুলে একটু নিচু হয়ে আবার উঠে পড়ুন। ডান পায়ে বার দশেক করার পরে একই ভাবে ওয়ান লেগ ডিপ করতে হবে বাঁ পায়ে।

লেগ স্ট্রেচ:

মেঝেয় বসে পা ছড়িয়ে দিন। হাত দু’টি রাখুন দু’পাশে, মেঝের উপরে। মেরুদণ্ড এবং কাঁধ থাকবে সোজা। এ বার বাঁ গোঁড়ালি ধীরে ধীরে নিজের দিকে নিয়ে আসুন। এতে স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটু ভাঙবে। পাঁচ সেকেন্ড রেখে পা ছড়িয়ে দিন। একই পদ্ধতিতে লেগ স্ট্রেচ দু’পায়ে করতে হবে পাঁচ সেট করে।

হাঁটুর ব্যথার তীব্রতা এবং বয়সের উপরে নির্ভর করে বদলাতে থাকে ব্যায়ামও। এই ব্যায়ামগুলি প্রাথমিক স্তরের। তবে কারও ব্যায়াম করতে গিয়ে ব্যথা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যদিও ব্যায়াম করার সময়ে সামান্য ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। রোজ ব্যায়ামগুলির অভ্যাস করলে, সেই ব্যথা মরেও যায়। এ ছাড়া কেউ যদি একান্তই কোনও ব্যায়াম না করতে পারেন, তা হলে তাঁকে রোজ হাঁটতে হবে। হাঁটার কোনও বিশেষ সময় নেই। সকাল-বিকেল-সন্ধে… যাঁর যে সময়ে সুবিধে, সেই সময়ই বেছে নিতে পারেন হাঁটার জন্য। নিয়মিত হাঁটলে হাঁটু ভাল থাকে।

এই সমস্ত হাঁটাহাঁটি এবং ব্যায়ামগুলি শুধু মাত্র হাঁটু নয়, সার্বিক ভাবে শরীরকেও ভাল রাখতে সাহায্য করে। তা হলে দেরি না করে যত্ন নেওয়া শুরু হোক এখন থেকেই।-আনন্দবাজার পত্রিকা।

This post Source: DMPnews

বন্ধ্যত্বের কারণ কী?

একটি সময় মনে করা হতো, বন্ধ্যত্বের জন্য কেবল নারীই দায়ী। তবে এখন ধারণা বদলেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, বন্ধ্যত্বের জন্য নারী-পুরুষ উভয়েই দায়ী। সাধারণত নারীদের বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অ্যান্ড্রোমেট্রোসিস রোগ ইত্যাদি কারণে বন্ধ্যত্বের সমস্যা হয়।

বন্ধ্যত্বের কারণের বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. কামরুন নেসা। বর্তমানে তিনি বিআরবি হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : বন্ধ্যত্ব সমস্যায় ভোগার পেছনে কারণ কী?

উত্তর : পেছনে আসলে অনেক কারণ দায়ী। আগে মনে করা হতো মেয়েরাই কেবল দায়ী বন্ধ্যত্বের জন্য। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নারী ও পুরুষ দুজনেই সমান দায়ী। ৪০ ভাগ কারণ মেয়েদের, ৪০ ভাগ কারণ পুরুষের। স্বামীর জন্যও ৪০ ভাগ বন্ধ্যত্ব হচ্ছে। আর কিছু বন্ধ্যত্ব ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। স্বামী-স্ত্রী, তাদের কোনো ধরনের কারণ আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। কিন্তু তাদের গর্ভাবস্থা হচ্ছে না।

নারীর কারণের মধ্যে বয়সটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ত্রিশের পর থেকে যেটা হয়, নারীদের ডিম্বাণু আসা এবং পরিপক্ব হওয়া—এ প্রক্রিয়াগুলো আস্তে আস্তে কমতে থাকে। ত্রিশের পর অনেক কমে যায় এবং চল্লিশের পর দেখা যায় যে মোটামুটি শূন্যের দিকে চলে গেছে। এই জন্য ত্রিশের পর থেকে হলে আমরা বলি বয়স একটি বড় কারণ। ত্রিশের পর এদের বাচ্চা ধারণক্ষমতাটা কমে যায়। পাশাপাশি কিছু ডিম্বস্ফোটন বিষয় রয়েছে, ডিম্বাণু যেটি হয়, সেটি পরিপক্ব হয় না বা ফাটে না। অনেক বড় একটি বিষয় এখনকার।

আমাদের জীবনযাপন বলেন, আমাদের সেডেন্টারি জীবনযাপন, এই যে দেরি করে আমরা বাচ্চা নিই, এসব অনেক কারণ এর জন্য দায়ী। এরপর টিউবে কিছু বিষয় থাকে। টিউব ব্লক থাকতে পারে। আগের সংক্রমণ, আগের অস্ত্রোপচার, যেকোনো কারণে টিউব ব্লক থাকতে পারে। এরপর অ্যান্ড্রোমেট্রোসিস বলে একটি রোগ রয়েছে। আমরা প্রায় ২০ ভাগ রোগ পাচ্ছি, যারা অ্যান্ড্রোমেট্রোসিসের জন্য, বন্ধ্যত্বে ভুগছে। আবার আমরা ইউট্রাসের কিছু সমস্যার জন্য পাই। ইউট্রাসে দেখা যাচ্ছে, ফাইব্রয়েড রয়েছে অথবা পলিপ রয়েছে, অথবা জন্মগত ইউট্র্রাসটা ছোট, তাদের দেখা যাচ্ছে ইউট্রাসের সমস্যার জন্য বন্ধ্যত্ব হচ্ছে। খবর এনটিভি।

This post source: DMPnews

অতিরিক্ত মেকাআপে ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকি

মেয়েদের নিজেকে সুন্দর দেখানোর হাতিয়ার মেকআপ। কিন্তু অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বাড়ছে ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকি যা অনেক মেয়েদের অজানা। সেসব বিষয় নিয়ে এই ফিচার।

অতিরিক্ত মেকআপের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, বরং প্রতিদিনের অতিরিক্ত মেকআপ শীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ এর ক্ষতিসহ কিডনি ড্যামেজের মতো রোগও ডেকে আনতে পারে। আর তা মেয়েদের শরীরে কাজ করে নীরব ঘাতক হিসাবে।

বর্তমানে বাজারে এত ধরনের মেকআপ কিট পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে চোখ ফেরানো সত্যিই সম্ভব নয়। কারণটা তো খুব সহজ। আর তাহলো, যেকোন মেয়ে নিজেকে সবসময় সব থেকে বেশি স্মার্ট ও সুন্দর হিসাবে প্রদর্শন করতে চান। আর এর বেশির ভাগ কারণ হলো মেয়েরা ছেলেদের আকর্ষণের জন্য যে সব ভয়ানক ঘাতক মেকআপ ব্যবহার করে। তা তার অজান্তে তারই ক্ষতিকরে বসে। এছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে। তবে এসব প্রোডাক্ট তো তাদের বিজ্ঞাপনে সেই নিশ্চয়তাই দেয়। এগুলো ব্যবহার করলে চোখ থেকে ঠোঁট সবই এত সুন্ধর দেখাবে যে, এতে কেউ আপনার থেকে চোখ ফেরাতে পারবে না। তাইতো তাদের প্রতিশুতি অনুযায়ী মেয়েরা সৌন্দর্য বাড়াতে ঐসব প্রসাধনী কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কিন্তু মেয়েরা জানতেও পারিনি, এর কারণে তাদের শরীরে কত রোগ বাসা বাঁধে। চলুন জেনে নেওয়া যাক নীরবে বাসা বাঁধা সেই অজানা ব্যাধিগুলো সম্পর্কে।

ক্যান্সারঃ কিছু লিপবাম, লিপস্টিক এবং সানস্ক্রিনে বেঞ্জোফেনান নামে এক ধরনের টক্সিক কেমিক্যাল থাকে। যা সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচায়। যদিও বাস্তবে এই কেমিক্যালটি ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ হওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান করণ, এমনটাই দাবি গবেষকদের।

বন্ধ্যত্বঃ একাধিক লিপস্টিক, সানস্ক্রিন এবং ফাউন্ডেশনে এমন কিছু কেমিক্যাল থাকে যেগুলো শরীরে হরমনের ভারসাম্য নষ্ট করে বন্ধ্যত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে যেসব নারী বা মেয়েরা অতিরিক্ত মেকআপ করে। তাদের অনেকে বাঁচ্চা জন্মদান করা ক্ষমা হারিয়ে ফেলে।

কিডনি ড্যামেজঃ কেডিয়াম নামে এক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় একাধিক মেকআপ প্রোডাক্টে। এটি কোনোভাবে যদি শরীরে প্রবেশ করে। তাহলে, কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। কিছু ক্ষেত্রে তো কিডনি ড্যামেজের মতো বিপদ ডেকে আনতে পারে এই উপাদানটি।

মাথা ঘোরাঃ নেলপলিশ, চুলের ডাই প্রভৃতিতে টলুইন নামে এক ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল থাকে যেটির কারণে মাথা ঘোরা, এমনকি ক্রনিক মাথা যন্ত্রণার মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হাড়ের রোগঃ কেডিয়াম নামে এই কেমিক্যালটি যদি ত্বক ভেদ করে হাড়ের পৌঁছে যায়। তাহলে কিন্তু বিপদ। কারণ এর থেকে হতে পারে নানা ধরনের জটিল হাড়ের রোগ।

হরমনের ক্ষতিঃ যে মেয়েরা অতিরিক্ত মেকআপ করে তাদের শরীরে হরমনের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং নানা রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে।

বর্তমানে তো বিভিন্ন অফিসে মেয়েদের কে রিসিপশনে চাকুরী করতে দেখা যায়। তাদের দিকে লক্ষ্য করলে মনে হয়। বাজারে যত মেকআপ আছে, এই মেয়েটিই লাগিয়েছে। আর আজকের দিনের কোম্পানীগুলোর  কাস্টমার/ ক্রেতা (খদ্দের) ধরার জন্য মেয়েদের ব্যবহার করছে রিসিপশনিস্ট হিসাবে। যাতে করে ছেলে বা পুরুষ কাস্টমারকে বেশি আকর্ষণ করতে পারে। আমার দৃষ্টিতে এধরনের মেকআপ ও এধরনের কর্ম থেকে মেয়েদের দূরে থাকাটাই সব থেকে উত্তম। তারপর আপনারাতো আমার কথা শুনবেন না। বাঙলাই একটা প্রবাদ আছে, “আমি বলাউল্লা বলেগেলাম আর আপনি শোনাউল্লা শুনে গেলেন বা পড়ের গেলেন।”

এছাড়াও মেকআপ মেয়েদের অনেক ক্ষতি করে। মেয়েরাই যে খালি মেকআপ করে তাই নয়্ বর্তমানে ছেলেরাও মেকআপ করে। তাই উভয়কে এইসব ভয়ানক কেমিক্যাল ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন। আপনাকে সৃষ্টি কর্তা যেমন ত্বক দিয়েছেন সেটাই আপনার জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া আপনি যেমন ত্বকের অধিকারী হননা কেন। তাতে কোন সমস্যা নেই। এই যে মেকআপ করে বা বিভিন্ন উপয়ে সৃষ্টি কর্তার উপর হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিজেকে বেশি সুন্দর করতে যাচ্ছেন। কিন্তু এটা কতদিনের চিরকালের তো না। যেহেতু আপনার জীবনকাল ক্ষীনসময়ের।  তাই মেকআপ বা কেমিক্যাল ব্যবহার না করাটাই ভালো।

অন্যদিকে যেসব কোম্পানী কসমেটিক প্রসাধনী তৈরি করে এবং বিভিন্ন উপায়ে কালো বা শ্যামলা ত্বকের মানুষদের (ছেলে ও মেয়েদের) ছোট দৃষ্টিতে উপস্থাপন করেন। তাদের ব্যবসাটা কতটু ভালো তা আপনারা ও সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। মাঝে মধ্যেই টিভিতে বিভিন্ন চ্যালেনের বিভিন্ন ভাষাই বিভিন্ন দেশের কালো বা শ্যামলা ত্বকের লোকেদের বাজেভাবে উপস্থাপন করা হয়। আমার দৃষ্টিতে সব থেকে বাজে । এ্যাড তৈরি করে ফ্যারেন লাভলী (ইউনিলিভার)। যাই হোক যার যার কর্ম তাই তাই করবে। তার পরেও আমাদের কাজ মানুষকে সচেতন করা আমরা করব।

অংকন বা ড্রইং (Drawing) কি? অংকনের উদ্দেশ্য

অংকন বা ড্রইং (Drawing)

কোন একটি বস্তু বা বস্তুর অংশবিশেষ একটি সমতলের উপর সংক্ষিপ্ত ও সম্পূর্ণভাবে ইহার আকৃতি, প্রকৃতি, পরিদর্শন এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার্বিক তথ্যসম্বলিত কতগুলি ভিন্ন ভিন্ন রেখার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তকরণের ভাষাকেই অংকন বা ড্রইং বলে।

অথবা, কোন একটি বস্তুকে একটি কাগজের উপরে নিয়মতান্ত্রিক রেখাসমূহের মাধ্যমে উপস্থাপন করার কৌশলকেই ড্রইং বলা হয়।

নক্সাঃ কোন বস্তু বা বস্তুসমূহ তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্যাবলী মুক্ত হস্তে অংকনের সাহায্যে বিবৃত করাকেই নক্সা বলে।

ড্রইং – এর উদ্দেশ্যঃ-

মানুষের মনের ভাবকে অন্যের নিকট প্রকাশ করিতে যেমন ভাষার প্রয়োজন য, কবি ও লেখকেরা তাহাদের মনের অভিব্রক্তিকে যেমন কবিতা ও প্রবন্ধের মাধ্যমে ব্যক্ত করিয়া তোলে, শিল্পীরা তাহাদের শিল্পের মাধ্যমে শিল্পকে সৌন্দর্য মন্ডিত করিয়া তোলে, ঠিক তেমনি কারিগরি বা ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে কোন বস্তু তৈরী, ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশনের কাজে কতকগুলি ভিন্ন ভিন্ন রেখার মাধ্যমে তাহাদের বিষয়টিকে অপরের কাছে উপস্থাপন করাই ড্রইং এর উদ্দেশ্য। তাই প্রকৌশলবিদগণের উক্তি হলোঃ “Drawing is the language of Engineer”.

ফটোকপি মেশিনের দোকান

অর্থনৈতিক গুরুত্বঃ বায়োডাটা, সার্টিফিকেট আরও কত কিছু যে কপি করতে লাগে তার কোন ইয়ত্তা নেই। তাই ফটোকপি মেশিনের দরকার প্রায় সকলেরই পড়ে। ফটোকপি মেশিনের দোকান খুলে বসলে সেই কারণেই লাভের আশা করা যায়।

সাজ-সরঞ্জামঃ- একটি ফটোকপি মেশিন দরকার। কাগজ দরকার।

ব্যবসার খুঁটিনাটিঃ- একটি পাতা ফটোকপি করতে .৮০ পয়সা থেকে ১ টাকা খরচ হতে পারে। তার জন্য আপনি পারিশ্রমিক ধার্য করতে পারেন ১.৫০-২ টাকা। দিনে ৪০০- ৬০০ টাকা রোজগার হতে পারে।

ফটোকপি মেশিনের দোকানের স্কিমঃ

ক) স্থায়ী মূলধন

ফটোকপি মেশিন         ৭০,০০০/- টাকা       ৯০,০০০/- টাকা

টেবিল, চেয়ার               ৪,০০০/-  টাকা        ৬,০০০/- টাকা

—————————————————————-

                                    ৭৪,০০০/- টাকা       ৯৬,০০০/- টাকা

খ) কার্যকরী মূলধন-

দোকান ভাড়া                ১,৫০০/- টাকা          ২,৫০০/- টকা

বিদ্যুৎ খরচ                   ১,০০০/-  টাকা         ১,৫০০/- টাকা

কাগজপত্র ইত্যাদি        ২,৫০০/- টাকা        ৩,০০০/- টাকা

———————————————————————-

                                    ৫,০০০/- টাকা         ৭,০০০/- টাকা

মোট বিনিয়োগকৃত মূলধন-

ক) স্থায়ী মূলধন-           ৯৬,০০০/- টাকা

খ) কার্যকরী মূলধন-      ৭,০০০/- টাকা

————————————————————–

                                    ১,০৩,০০০/- টাকা

কাগজ পিছু আনুমানিক লাভ-ক্ষতির হিসাব

ব্যয়

১ পাতা কাগজ ফটোকপি খরচ .৮০ পয়সা- ১টাকার মত

আয়

১ পাতা ফটোকপি করার জন্য কাস্টমারের কাছ থেকে নেওয়া হয় ১.৫০ – ২/- টাকা

হাঁস মুরগি পালন করেও অর্থ আয় করতে পারেন

অর্তনৈতিক গুরুত্ব:- হাঁস মুরগির ডিম ও মাংস অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এদের চাহিদাও বিপুল। আর এগুলোর ব্যবসা তাই-ই ভীষন লাভদায়ক।

হাঁস পালন পদ্ধতি- হাঁস বিভিন্ন প্রজাতির পাওয়া যায়।

১) দেশি হাঁস

২) রানার হাঁস

৩) খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁস

৪) সাদা ক্যাম্পবেল হাঁস

হাঁস পালন করতে হলে বাড়ির কাছে পুকুর, খাল ইত্যাদি জলাশয় থাকা দরকার। হাঁসের থাকার জন্য বাঁশ, কঞ্চি বা ইট, সুরকি দিয়ে অল্প উঁচু ঘর তৈরি করতে হবে।

৮০% হাঁস সকাল ৭/৮ টার আগে ডিম পাড়ে।

১৫% হাঁস সকাল ৯টার মধ্যে ডিম পাড়ে। তাই সকাল ৯ টা পর্যন্ত হাঁসগুলোকে ঘরে আটকে রাখা উচিত।

আর সূর্যাস্তের আগেই তাদের ঘরে ঢোকানো দরকার। বিকালে ঘরের কাছে নিয়মিত ভাবে খাবার রেখে দিলে হাঁসেরা নিজেরাই তা খেতে সময় মতো ঘরের কাছে আসবে, তখন তাদের ঘরে তোলা সহজ হবে। ঘর মাঝে মাঝে সাফ করতে হয়। ডি.ডি.টি পাউডার বা গন্ধকের গুঁড়ো ছেটানো প্রয়োজন।

শামুক, গেঁড়ি হাঁসের প্রিয় খাদ্য। গেঁড়ি, গুগলি জলের সঙ্গে থেঁতলে তার সাথে ভাত ইত্যাদি, শুকনো মাছের গুঁড়া, নুন একসাথে মিশিয়ে হাঁসের জন্য মিশ্র খাদ্য তৈরী ক’রে রোজ বিকালে তাদের ঘরের সামনে রাখতে হবে।

হাঁস ডিমে তা দিতে পারে না, তাই ডিমে তা দেওয়ার জন্য দেশী মুরগী কে কাজে লাগাতে হবে।

মুরগী পালন- প্রথমে একটা পিরামিড আকৃতির ঘর বানান। ইংরেজি A অক্ষরের মতো করে। কাঠের বা ভাঁশের তিনটি ফ্রেম দিয়ে এই ঘর বানিয়ে নিতে হবে। ২ মিটার লম্বা, ২ মিটার চওড়া পিরামিড ঘরে ১৪/১৫ টি মুরগীকে রাখা যায়।

মুরগীর ঘরের মেঝেতে শুকনো খড়-বিচালি বা কাঠের গুঁড়া পুরু করে ছড়িয়ে দিন। একে বলে ডীপ লিটার ব্যবস্থা মুরগীর ঘরে হ্যারিকেন লন্ঠন বা অন্য কিছুর সাহায্যে (বিশেষ করে শীতের দিন) কৃত্রিমভাবে তাপ সঞ্চারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এমনিতে মুরগী নানান জাতের দেখতে পাওয়া যায়।

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মুরগীগুলোর মধ্যে ইটালির টসক্যানির লেগহর্ন মুরগী ও মিনাকা দ্বীপের মুরগী বিখ্যাত। হোয়াইট লেগহর্ন মুরগী বছরে ডিম দেয় ১৬০- ২০০ টা। আমেরিকার রোড আইল্যান্ড জাতীয় মুরগী ভারতে ব্যাপক হারে পালিত হয়। এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মুরগীর মধ্যে আসীল জাতের মুরগীই উৎকৃষ্ট। চাটগাঁয়ের মুরগী, চীনের মুরগী, ব্রামা ও ল্যাংশ্যান ( ছোটজাতের মুরগী) ও ভারতের সঙ্কর জাতের ঘ্যাগাস মুরগী খুবই উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও ইংল্যান্ডের লাইট সাসেকশ ও অরপিংটন, অষ্ট্রেলিয়ার উইঅ্যানডট অষ্টলিপ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কোচীন মুরগীর চাষ ভারতে হয়।

ডিম ফুটে বাচ্চা হবার পর ৩০ ঘন্টা পর্যন্ত তাদের কিছু খেতে দিতে হয় না। বাচ্চা মুরগীদের থাকা-খাওয়ার বিশেষ ভালো ব্যবস্থা করতে হয়। তাদের ৫০ ভাগ চালগুড়া, ২৫ ভাগ গমের ভূষি, ১০ ভাগ ভাগ ভুট্টা চুর্ণ, ৫ ভাগ করে মাছের শুকনো গুড়ো, বাদামের খোল গুড়া, গুড় ও ১ ভাগ নুনের মিশ্রণ খেতে দিতে হয়।

মুরগীদের সাধারণত রাণীক্ষেত রোগ, কলেরা, বসন্ত প্রভৃতি রোগ হয়। এই সব রোগের ভ্যাকসিন আগে থেকে দেওয়া দরকার। বাচ্চা মুরগীর পুলোরাম রোগ, ককসিডাইওসিস, করিজা রোগ হতে পারে। মুরগীর শরীরে উকুন থাকলে গ্যামাক্সিন পাউডার দিয়ে মাঝে মাঝে ঝেড়ে দিতে হবে।

খুঁটিনাটি তথ্যঃ- শিশুহাঁস ও শিশু মুরগী যেকোন হ্যাচারি থেকে পাবেন। ১২/১৬ টাকা করে মাথা পিছু দাম পড়বে। বিক্রি করতে পারবেন কেজি প্রতি ১২০- ২৪০ টাকা  করে। ডিম ৩০- ৩৫ টাকা হালি বিক্রি করতে পারবেন।

মাশরুম চাষ করে অর্থ আয় করুন

অর্থনৈতিক গুরুত্বঃ বাঙালীর খাদ্য তালিকার মধ্য যুক্ত হয়ে খুব দ্রুতই অভিজাত মহলে জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে মাশরুম। এর চাষ তাই নিঃসন্দেহেই লাভদায়ক।

খুঁটিনাটি তথ্যঃ- আমাদের দেশে তিন রকমের মাশরুমের চাষ হয়- পোয়াল ছাতু, ঘিংরি ছাতু ও বোতাম আকৃতির সাদা ছাতু। তার মধ্যে পোয়াল ছাতু চাষের জন্য চাই একটু স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া। ৩০-৩৫ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা এই পোয়াল ছাতু চাষের পক্ষে বেশী উপযোগী। পোয়াল ছাতুর ক্ষেত্রে বীজবপনের ১৫ দিনের মধ্যে ফসল মেলে। মাশরুম চাষের জন্য দরকার হয় আমন ধানের খড়।

     এই খড়কে ১ ইঞ্চি মাপে কেটে ১২-১৬ ঘন্টা জলে (পানিতে) ভিজিয়ে রেখে তারপর কয়েকঘন্টা ওপরে ঝুলি রেখে জল ঝরিয়ে নিতে হয়। মাশরুম চাষ বেত বা পলিথিনের ব্যাগেও করা যায়। তবে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে চাষের জন্য বেতই ভালো। ১টা ঘরে ১ কেজির মতো বীজ ব্যবহার করে ২-৩ কেজি মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। বীজের দাম প্রতিকেজি ২০-৪০ টাকার মতো। একটা ঘর থেকে আপনি ৩০০ টাকার মতো একবারে মাশরুম বিক্রি করতে পারেন।

মাশরুম চাষের পদ্ধতিঃ- ১টা ঘরে প্রথমে বেত দিয়ে একটা মাচা বানাতে হবে। তাতে নেট বিছিয়ে তার ওপর খড় বিছিয়ে মাশরুম বীজ দিয়ে তার ওপরে ছোলার ছাতু দিয়ে ১ইঞ্চি খড়ের স্তর করে তার ওপরে আবার মাশরুমের বীজ দিয়ে ফের খড় বিছাতে হবে এবং তার ওপরে পলিথিন পাততে হবে। এই মাচার ওপরে আর একটা মাচা বানাতে হবে। তারও ওপরে আরও ১টা বা ২টা সাচা বানানো যায়। এইভাবে বেতের ৩/৪টি ধাপ বানিয়ে চাষ করতে হবে। পলিথিনটা প্রথম ৩/৪ দিন চাপা দিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু রোজ সেটাকে ১৫-২০ মিনিটের জন্য খুলে ধাপগুলোতে হাওয়া লাগাতে হবে। এ সময় প্রয়োজন হলে পানি বা জল দিতে হবে।

দামঃ- মাশরুমের খোলা বাজারে বিক্রয়মূল্য ১২০- ১২৫ টাকা।

কীভাবে, কোথায় বিক্রিয় করবেন- বড় বড় হোটেল গুলোতে সাপ্লাই দিতে পারেন। কিছু সংস্থা আছে যারা নিজেরা মাশরুম চাষ করতে দেয়, তারাই তা কিনে নেয়। খবরের কাগজে এরা নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেয়।