Category Archives: Tutorial

মাইক্রোসফট এক্সসেল অথবা স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনাঃ

দীর্ঘ দিন থেকে বিভিন্ন হিসাবের তথ্য গুলোকে কলাম ও সারিতে সাজিয়ে নিয়ে হিসাব করা হতো। সাধারন কাজেই আয়-ব্যয়, মজুরি হিসাব ইত্যাদি হিসাবের কাজে, এই ভাবে কলাম ও সারির ব্যবহার দেখা যেত।  কলাম ও সারির প্রত্যেকটি উপাদানকে বলা হয় ঘর বা সেল। প্রত্যেকটি সেলকে অন্য সেলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করা যায়। এই ভাবে হিসাব রাখা কে বলা হতো স্প্রেডশিট।

 

ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র আবিষ্কার এরপর ইলেকট্রনিক্স স্প্রেডশিট এর প্রচলন হয়। কম্পিউটার এর ব্যবহার ও  ব্যপ্তি বাড়ার সংগে স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম ও কম্পিউটার এ ঢুকে পরে।

 

কম্পিউটারে হিসাব-নিকাশ করার এক ধরনের সাধারন প্রোগ্রাম হলো স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম। বাজেট কিংবা নানাবিদ হিসাব-নিকাশের এই প্রোগ্রামে উপাত্তগুলোকে রাখা হয় বিভিন্ন সেলে, যে সেলগুলোর মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক তৈরি করা যায়। সূত্রের মাধ্যমে এবং এর ফলে কোন সেলের উপাত্তের পরিবর্তন হলে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য সেলের উপাত্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাল-নাগাদ হয়ে যায়।

স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের সহজ-সরল হিসাবনিকাশের বিশ্লেষণ ও করা যায়। এ ধরনের প্যাকেজ প্রোগ্রাম কে কিছু ডেটাবেজের কাজও করা যায়।

 

সাধারণ হিসাব নিকাশের কাজও কাগজে লিখে ক্যালকুলেটর এর বোতাম টিপে সহজেই করে ফেলা যায়।  বড় ধরনের হিসেবের কাজও ক্যালকুলেটরের ব্যবহার করে সমাধান করা যায়। আঙ্গুলের কর গুনে গুনে এবং কাগজে লিখে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ করে একটি হিসাব মিলাতে যত সময় লাগে।  ক্যালকুলেটরের সাহায্যে তার চেয়ে অনেক কম সময়ে ওই হিসাবটি করা যায়। তার চেয়েও অনেক কম সময়ে হিসাবটি করা যায় স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের সাহায্যে।

 

মনে করি, তিন চার অংক বিশিষ্ট সংখ্যার যোগ করতে হবে ।  ক্যালকুলেটরের সাহায্য করার জন্য 20 বার তিন চারটি করে বোতাম টিপতে হবে।  সেই সঙ্গে প্রতিবারই + চিহ্ন চাপ দিতে হবে। কিন্তু স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের সাহায্যে খুব বেশি 4 বা 5 সেকেন্ডের মধ্যেই এটি করে ফেলা যাবে। সংখ্যাগুলো কাগজে লিখে এবং কম্পিউটারে টাইপ করতে হয়তো একই রকম সময় লাগবে।  কিন্তু যোগ এর একটি স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের সাহায্যে অকল্পনীয় দ্রুত গতিতে যোগ করা যাবে। আবার ক্যালকুলেটরের বোতাম টিপতে ভুল হলে যোগফল ভুল হবে। এ ধরনের ভুল হতেই পারে। ভুল হয়ে গেলে আবার প্রথম থেকে শুরু করার প্রয়োজন হতে পারে।  কিন্তু স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের ভুল হয় না। স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের আরো একটি সুবিধা আছে। একবার যোগফল নামানোর পর যদি কোন একটি বা অনেকগুলো সংখ্যা পরিবর্তন করা হয়, তাহলে যোগফল স্বয়ংক্রিয় ভাবে পরিবর্তন হয়ে নতুন সঠিক হিসাব অনুযায়ী বিন্যস্ত হবে। কিন্তু ক্যালকুলেটরের সাহায্যে এ রকম পরিবর্তিত হিসাবটি নতুনভাবে করতে সময় লাগবে এবং কাগজে আবার পূর্ববর্তী সংখ্যাগুলো ঘষে তুলে নতুন সংখ্যাগুলো লিখতে হবে।  যতবার ভুল হতে থাকবে ততোবারই ওই কাজটির পুনরাবৃত্তি করতে হবে। অথচ স্প্রেডশিট শুধু পরিবর্তিত সংখ্যাগুলো টাইপ করে দিলেই হবে। সম্পূর্ণ হিসাব আপনা-আপনি পূনর্বিন্যাস হয়ে যাবে। স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের বৈশিষ্ট্য বড় ও মিশ্র হিসাবের কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্প্রেডশিট প্রোগ্রামটি তৈরি করা হয় 1979 সালে সর্বপ্রথম। তখন কার সময়ে এই প্রোগ্রামটির নাম ছিল ভিসিকেল। এটি সর্ব প্রথম ইলেকট্রনিক্স স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম।  এটি তৈরী করেন ডান ব্রিকিন এবং বব ফ্র্যাঙ্কস্টিম।

  1. Lotus 1-2-3
  2. Microsoft Excel
  3. Open Office Excel
  4. King Office Excel

 

ভিজুয়্যাল বেসিকে কাজ করার জন্য যে বিষয়গুলো দরকার তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ

Project: কোন উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য ভিজুয়্যাল বেসিক লেখা সম্পূর্ণ প্রোগ্রামকে প্রজেক্ট বলা হয়। একটি প্রজেক্ট এ কয়েকটি ফর্ম, ফর্মের কোড এবং মডিউল থাকতে পারে।

 

Module: প্রোগ্রাম একটি বিরাট ব্যাপার। একটি প্রোগ্রামকে কয়েকটি অংশে বিভক্ত করলে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ তৈরি হয় তার প্রত্যেকটি অংশকে এক একটি মডিউল বলে। সংক্ষেপে বলা যায়, কয়েকটি মডিউলের সমষ্টিই হচ্ছে একটি পূর্ণঙ্গ প্রোগ্রাম। ভিজুয়্যাল বেসিকে মডিউল কোড সংক্ষিপ্ত হয়।

 

Form: ফর্ম হচ্ছে Visual Basic এর প্রজেক্টের অধীনে একটি Window যেখানে কন্ট্রোল স্থাপন করে, প্রপার্টিজ সেট করে, কোড লিখে প্রজেক্ট তৈরি করা হয়। ফর্মটি একটি অবজেক্ট হিসাবে কাজ করে। একটি প্রজেক্ট একাধিক ফর্ম সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে।

Object: অন্যান্য প্রোগ্রামে অনেক কোড লিখে যে কাজ সম্পাদন করা যায়, ভিজুয়্যাল বেসিকের কন্ট্রোল ব্যবহার করে অতি সহজে তা করা যায়। প্রয়োজনীয় কন্ট্রোলটি ফর্মে জুড়ে দিলে তার জন্য প্রয়োজনীয় কোড লেখা হয়ে যায়। কোন কার্ সম্পন্ন করার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন কন্ট্রোল, ফর্ম ইত্যাদিকে অবজেক্ট বলা হয়।

Control: কোন প্রজেক্ট তৈরি করতে হলে ফর্মের উপর Textbox, Button, Label ইত্যাদি তৈরি করতে হয়। কিন্তু Visual Basic তে এগুলো তৈরি করতে কোন কোড লিখতে হয় না। যার সাহায্যে সরাসরি এইগুলো তৈরি করা যায়, উহাকে Toolbox বলে। বিভিন্ন Tool ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ সমাধা করা যায়। এদের প্রত্যেককে কন্ট্রোল বলে। যেমনঃ টেক্সটবক্স তৈরি করতে ব্যবহৃত হয় Textbox, Control কমান্ড বাটন তৈরি করতে ব্যবহৃত হয় Command Button control ইত্যাদি।

View মেনুর Toolbox কমান্ডে ক্লিক করলে পর্দায় বিভিন্ন কন্ট্রোল বাটন সমৃদ্ধ Toolbox দেখা যাবে।

 

Event: Computer চালনা করে আমরা যাবতীয় কাজ মাউস দিয়ে ক্লিক করে বা কীবোর্ডের কোন কী চেপে সম্পন্ন করি অর্থাৎ কমান্ড বাটনে ক্লিক করে কোন কাজ করি।এই করাটা একটি ইভেন্ট। অনুরূপভাবে Key-press একটি ইভেন্ট ইত্যাদি।

Visual Basic বিভিন্ন ইভেন্ট এর অধীনে কোর্ড লিখলে প্রোগ্রাম রান করিয়ে এ ইভেন্ট ঘটালে কোড নিরবাহ হয়ে কোন কাজ হয়।

Method: অবজেক্টের ক্রিয়াই হলো মেথড। Application এ বিভিন্ন অবজেক্টসমূহের ইভেন্ট নির্ধারণের পর উক্ত অবজেক্টসমূহ কি ধরনের কাজ করবে তার জন্য প্রয়োজনীয় কোড লিখতে হয়। ভিজুয়্যাল বেসিকে উক্ত কোড সমূহকে মেথড নাম অভিহিত করা হয়ে থাকে। এক একটি মেথড উহার কাজের দিক অনুযায়ী বিভিন্ন অবজেক্টের সাথ ব্যবহার করা যায়। যেমন:- Cls, Hide, Print.

ধরা যাক, ফর্ম এবং পিকচার বক্র দু’টি অবজেক্টের নাম হল Form1 এবং Picture1 এখানে Cls, Hide এবং Print এ তিনটি মেথডের ব্যবহার দেখানো হলঃ-

Form1.Cls- ফর্মটি ক্লিয়ার করবে।

Picture1.Cls- পিকচারটি ক্লিয়ার করবে।

Pciture1.Print time- পিচার বক্সে সময প্রিন্ট করবে।

Form1.hide- ফর্মটি লুকাবে।

 

Statement: স্টেটমেন্ট হলো একটি সম্পূর্ণ কোড লাইন। যেমনঃ Private Sub Command1_Click() হলো একটি স্টেটমেন্ট যা সম্পূর্ণ এক লাইন কোড।

বেসিক বা ভিজুয়্যাল বেসিক ভাষার ইতিহাস

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কি?

কম্পিউটারের নানা ধরনের ভাষা আছে। কম্পিউটারের ভাষায় কোন সমস্যা সমাধানের অর্থপূর্ণ সাজানো নির্দেশমালাকেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বলা হয়।

Basic Program:

বেসিক ভাষা বা প্রোগ্রামের জন্ম 1964 সালে। যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজের অধ্যাপক জন কমেনি এবং থমাস কার্তুজ সরবপ্রথম বেসিক ভাষার প্রবর্তন করেন। Beginner’s All Purpose Symbolic Instruction Code এর সংক্ষিপ্ত রূপই হচ্ছে BASIC.

ব্যবহারকারীদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে বেসিক ভাষার কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে BASIC, GWBASIC, QBASIC ইত্যাদি। বর্তমানে বেসিকের যে, সংস্করনটি জনপ্রিয়তার সঙ্গে অবস্থান করছে, সেটি হচ্ছে ভিজুয়্যাল বেসিক। এটি উইন্ডোজ ভিত্তিক একটি প্রোগ্রাম যা সহজে সমগ্র বিশ্বে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।

Visual Basic:

Microsoft Corporation কর্তৃক 1991 সালে প্রণীত একটি প্রোগ্রাম। Visual শব্দের অর্থ দৃশ্যমান। Basic এর আভিধানিক অর্ মৌলিক। কম্পিউটারে সহজে প্রোগ্রাম রচনার জন্য ব্যবহৃত মৌলিক ভাষার নাম বেসিক। বেসিক ভাষায় প্রোগ্রাম রচনাকে আরো সহজতর করার জন্য মাইক্রোসফট এটি Graphical User Interface (GUI) এ রুপান্তর করে। GUI এ পুপান্তরিত বেসিকের ভার্সন বা সংস্করণটির নাম Visual Basic. সহজ ভাষা ব্যবহারের উপযোগিতা, অসাধারণ ডিবাগিং পদ্ধতি এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় লাইব্রেরি ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়ে অতি সহজে একটি প্রোগ্রাম তৈরি করা যেতে পারে। প্রথমের কয়েকেটি ভার্সন অতিক্রম করে ভিজুয়্যাল বেসিক 6, 7.0, 2002, 2003, 2005, 2008, 2010, 2012, 2013, 2015, 2017, 2019 এসেছে। এর মধ্য হতে আমরা ভিজুয়্যাল বেসিক 2015/2017/2019 নিয়ে এখানে আলোচনা ও ব্যবহার শিখব। আমি জানি আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ভিজুয়্যাল বেসিক 6 সম্পর্কে আগে থেকেই জানেন। তবে শিক্ষার কোন শেষ নেই। এই অংশটি তাদের জন্য যারা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এ নতুন। আমি আশা করি বাংলার সেই নতুন প্রোগ্রামার গন নতুন কিছু তৈরি করবেন।

ভিজুয়্যাল বেসিকে কাজ করতে হলে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার।

  1. Project
  2. Module
  3. Form
  4. Object
  5. Control
  6. Event
  7. Method
  8. Statement

উপরোক্ত এই বিষয় গুলো সম্পর্কে ভালো ভাবে জানা প্রয়োজন।

আমরা পরবর্তী অংশে এই ৮ টি বিষয় সম্পর্ক আলোচনা করব।