Tag Archives: ডেটাবেজ ও RDMS নিয়ে আলোচনা

ওরাকল সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট

আমাদের উপস্থাপনের সুবির্ধাথে ও শিক্ষার্থীদের সহজে বুঝিবার জন্য আমরা আমাদের এই টিউটোরিয়াল কে পাঁচটি বিভাগে ভাগ করেছি।

* ওরাকলের সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও ইনস্টলেশন

* SQL নিয়ে আলোচনা

* PL/SQL নিয়ে আলোচনা

* From Developing

* Report Developing

এবং সর্বশেষে যে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করেছি। সেটি হলো Setup file বা EXE ফাইল তৈরি ও প্রসেসিং। এই প্রত্যেকটি অধ্যায়ে বা পর্বে অনেক গুলো Lesson আছে।


 

সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও ইনস্টলেশন

Lesson সমূহঃ

* ডেটা, ডেটাবেজ ও RDMS নিয়ে আলোচনা।

* ওরাকল, ইতিহাস ও ডেটাবেজ

* ডেটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ইউটিলিটিস

* ওরাকল ডেটাবেজ আর্কিটেকচার

* ওরাকল ডেটাবেজ ও গ্রীড/ক্লাউড কম্পিউটিং

* ওরাকল ডেটাবেজ, ডেভলপার ইনস্টলেশন

* ওরাকল ডেটাবেজ ইন্সট্যান্স ম্যানেজমেন্ট


 

ওরাকল শিক্ষনীয় পর্ব ১

* ডেটা কি?

* ডেটাবেজ কি?

* ডেটাবেজের বিভিন্ন উপাদান

* ডেটাবেচ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম

* ডেটাবেজ মডেল

* ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের

* সুবিধা

* প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ

* রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS)

 


ডেটাঃ

Data শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Datum এর বহুবচন । Datum এর অর্থ তথ্যের উপাদান । তথ্যের অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্রতম অংশসমূহ হচ্ছে ডেটা বা উপাত্ত । প্রক্রিয়াকরণ করে তথ্যে পরিণত করার জন্য কম্পিউটারে ডেটা বা উপাত্ত সমূহকে ইনপুট বা সরবরাহ করা হয় ।

 

তথ্য?

সরবরাহকৃত ডেটা থেকে প্রক্রিয়াকরণের পর নির্দিষ্ট চাহিদার প্রেক্ষিতে সুশৃংখল যে ফলাফল পাওয়া যায় তাকেই বলা হয় তথ্য বা ইনফরমেশন ।

ডেটাবেজ?

Data শব্দের অর্থ হচ্ছে তথ্য বা উপাত্ত এবং Base শব্দের অর্থ হচ্ছে ঘাটি বা সমাবেশ । শাব্দিক অর্থে ডেটাবেজ হচ্ছে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের উপর ব্যাপক তথ্য বা উপাত্তের সমাবেশ । বিভিন্ন লেখক বিভিন্নভাবে ডেটাবেজের সংজ্ঞাদিয়েছেন-

“সম্পর্কযুক্ত ডেটার সমাবেশই ডেটাবেজ(A database is a collection of related data.)- Elmadsi & Navathe.”

“এক বা একাধিক সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে বর্ণনা করার জন্য ডেটার সংগ্রহকেই ডেটাবেজ বলে। – Ramakrishnan & Gehrike.”

আর আমার মতে,

ডেটাবেজ হলো সেই বিষয় যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের সকল ডেটা সংরক্ষিত থাকে যা প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায়।

 

ডেটাবেজের উপাদানঃ

বিট(Bit): একটি ডেটার ক্ষুদ্রতম যে অংশ একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে তাকে বিট বলে। বাইনারী ডিজিটের সংক্ষিপ্ত রূপ বিট। বিট কে 0, 1 দ্বারা প্রকাশ করা হয় আর এই 0, 1 হলো বাইনারী সংখ্যা যার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার কাজ করে।

 

বাইট(Byte): বাইট হলো 8টি বিটের সমান বা 8বিটে এক বাইট হয়। অর্থাৎ একটি অক্ষর, নাম্বার বা প্রতীক কে বুঝানো হয়।

ফিল্ড(Field): একাধিক অক্ষর সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি শব্দ বা একটি সংখ্যা। একে ফিল্ড বলা হয়। যেমন- কোন লোকের নাম বা বয়স ফিল্ড হতে পারে।

রেকর্ড(Record): পরস্পর সম্পর্কিত একগুচ্ছ ফিল্ডকে রেকর্ড বলে। যেমন- নাম, ঠিকানা, বয়স একত্রে একটি রেকর্ড।

ফাইল (File): একই রকমের অনেকগুলো রেকর্ড নিয়ে একত্রে একটি ফাইল গঠিত হয় বা ফাইল বলা হয়। একটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের তথ্যাবলিগুলো কে ফাইল বলা হয়।

ডেটাবেজ (Database): অনেকগুলো একই কাজের ফাইল একত্রিত হয়ে একটি ডেটাবেজ তৈরি হয়।

 

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS) :

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS) হচ্ছে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত তথ্য এবং সেই তথ্য পর্যালোচনা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামের সমষ্টি। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এ তথ্যকে বলা হয় ডেটাবেজ। এ ডেটাবেজে কোন প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। DBMS এর প্রাথমিক লক্ষ হচ্ছে ডেটাবেজে তথ্যাবলি সংরক্ষণ সহজতর করা এবং তা ব্যবহারে সহায়তা প্রদান করা।

DBMS হলো এমন একটি Software যেটা- ডেটাবেজ তৈরি, পরিবর্তন, সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনার কাজে ব্যবহার হয়।

“A Database Management System is a Collection of programs that enables users to create and maintain a database.”

 

ডেটাবেজের সংগঠন বা মডেলঃ

ডেটাবেজকে ব্যবহারকারীরা কি ভাবে ব্যবহার করবে তার উপর ভিত্তি করে ডেটাবেজের গঠণ নির্ভর করে। ডেটাবেজের গঠণকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়।

. সরল ডেটাবেজ মডেল,

 . হায়ারারকিক্যাল ডেটাবেজ মডেল,

. নেটওয়ার্ক ডেটাবেজ মডেল,

. রিলেশনাল ডেটাবেজ মডেল.

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কাজ :

  1. প্রয়োজন অনুযায়ী ডেটাবেজ তৈরি করা,
  2. ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণ করা,
  3. নতুন ডেটা/ রেকর্ড বাদ দেওয়া,
  4. অপ্রয়োজনীয় ডেটা/ রেকর্ড বাদ দেওয়া
  5. ডেটার বানান ও সংখ্যার ভুল অনুসন্ধান ও সংশোধন করা,
  6. প্রয়োজনীয় ডেটা/ রেকর্ড অনুসন্ধান ও সংশোধন করা,
  7. প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো ডেটাবেজকে যেকোন ফিল্ডের ভিত্তিতে বিভিন্নভাবে বিন্যস্ত করা,
  8. চূড়ান্ত সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করা,
  9. প্রয়োজনীয় ডেটাবেজের প্রিন্ট নেওয়া,
  10. ডেটার নিরাপত্তা বিধান করা
  11. ডেটা সংরক্ষণ করা

 

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্টের সুবিধাঃ

* এটি একটি সুসংগঠিত ডেটা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া

* এর সাহায্যে অতি দ্রুত এবং সহজেই ডেটা একসেস, মডিফাই এবং কোয়ারি করা যায়

* ডেটার যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, ফলে আন-অথারাইজড ব্যক্তি ডেটা এক্সেস করতে পারে না

* ডেটার অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয় না, কেননা একই সাথে একাধিক ব্যবহারকারী ডেটা একসেস করে থাকে

* ডেটা রিডাডেন্সি কম এবং ডেটা ইনকনসিস্টেন্সি সমস্যা নেই

* ডেটা আইসোলেশন সমস্যা নেই বর্র ডেটা ইন্ট্রিগিটি বিদ্যমান

* ডেটাবেজ ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং এর মেইনটেনেন্স খরচ কম

* সহজ উপায়ে এবং দ্রুত ডেটা ব্যাকআপ নেওয়া যায়, রিকোভারি করা যায় এবং ট্রান্সফার করা যায়

* কোয়ারি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা যায়

 

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ সমূহঃ

 

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রযোগে বেশ কিছু বাধা আছে।

* ডেটাবেজ ডিজাইন করা বেশ কঠিণ ও সময় সাপেক্ষ একটি কাজ

* এর জন্য হার্ডওয়ার ও সফটওয়ারের খরচ বেশি হয়।

* ডেটাবেজ সিস্টেম ব্যবহার করতে দক্ষ ব্যবহারকারী জনশক্তি প্রয়োজন এবং সকল ব্যবহারীকারীকে প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হয়।

* ডেটাবেজকে নিয়মিতভাবে মেইনটেনেন্স ও টিউনিং করার প্রয়োজন হয় এবং নিয়মিত এর ব্যাকআপও নিতে হয়।

 

রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS):

১৯৭০ সালে E.F. Codd প্রথম প্রাথমিক কী ব্যবহার করে দুটি ডেটাবেজের মাঝে সম্পর্ক তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তার ধারনা অনুযায়ী বৃহৎ ডেটাকে ভেঙে আলাদা আলাদা ডেটাটেবিল তৈরি করে নিতে হবে, পরে কোন কমন ফিল্ডের ভিত্তিতে টেবিলসমূহের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা যাবে।


এখানে আমরা ওরাকলের সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও ইনস্টলেশন শিক্ষনীয় পর্ব ১ নিয়ে আলোচনা করেছি। পরবর্তী  টিউটোরিয়াল পার্বে আমরা ওরাকলের শিক্ষনীয় পর্ব-২ নিয়ে আলোচনা করা এবং এই লেখাগুলো ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে। আপনারা যাহারা ওরাকল সম্পর্কে জানতে ও শিখতে ইচ্ছুক, তাদের সকলকে আমাদের লেখাগুলো পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়।